লেখকের কথা
এই লেখাটা শুরু হয়েছিল নিজের একটা প্রশ্ন থেকে। বছরের পর বছর নামাজ পড়েছি, কিন্তু একটা সময়ে বুঝলাম, মুখে পড়ছি ঠিকই, হৃদয়ে পৌঁছাচ্ছে না। শব্দ আছে, কিন্তু সংযোগ নেই।
তখন থেকে প্রতিটা দোয়া, প্রতিটা সূরা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম। কোথা থেকে এলো, কেন এলো, কী অর্থ বহন করে। যত বুঝলাম, তত অনুভব করলাম। এই লেখাটা সেই বোঝার ফসল।
জুলকার নাইন
শুরুর কথা
নামাজে দাঁড়ানোর পরেও মনে সংযোগ না আসার একটাই মূল কারণ, কথা বলছেন, কিন্তু কী বলছেন সেটা জানেন না।
ধরুন, কেউ আপনাকে একটা চিঠি লিখলো ভালোবেসে। আপনি সেই চিঠি বারবার পড়ছেন, কিন্তু ভাষাটা বোঝেন না। চিঠি পড়া হচ্ছে, কিন্তু কথাগুলো বুকে পৌঁছাচ্ছে না। নামাজের সাথে অনেকটা এই সম্পর্কটাই হয়ে যায় আমাদের।
এই লেখাটা সেই কথাগুলো বোঝার জন্য। একবার বুঝলে, নামাজে দাঁড়ানোর অনুভূতিটাই বদলে যায়।
তাকবিরে তাহরিমা
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার
নামাজ শুরুর আগের মুহূর্তটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন। দুই হাত কান পর্যন্ত তুলে "আল্লাহু আকবার" বলছেন। এই হাত তোলার মানে কী?
আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, দুই হাত তোলার মানে দুনিয়াকে পেছনে রেখে যাওয়া। অফিসের ফাইল, ফোনের নোটিফিকেশন, মাথায় ঘুরতে থাকা সব চিন্তা, সব কিছু যেন পেছনে ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর ঘোষণা দিচ্ছেন: এই মুহূর্তে এই সব কিছুর চেয়ে আল্লাহ বড়।
"তাহরিমা" শব্দের মানে নিষিদ্ধ করা। এই তাকবির বলার পর দুনিয়ার সব কথাবার্তা নিষিদ্ধ হয়ে গেলো। আপনি এখন আল্লাহর দরবারে প্রবেশ করলেন। এটা শুধু শুরুর কথা না, এটা একটা সচেতন সিদ্ধান্তের ঘোষণা।
ছানা
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা
কারো সাথে দেখা হলে সরাসরি নিজের কাজের কথা বলেন না। আগে সালাম দেন, একটু কুশলাদি বিনিময় করেন। এটা ভদ্রতা, এটা সম্পর্কের ভাষা।
ছানাও তেমন। আল্লাহর দরবারে এসে প্রথমে তাঁর প্রশংসা করছেন, তাঁর পবিত্রতার কথা বলছেন। বলছেন: "তুমি পবিত্র, তোমার নাম পবিত্র, তুমি এত উঁচুতে যে তোমার সমকক্ষ কেউ নেই।" এটা মুখের কথা না, এটা মনের স্বীকৃতি।
আউজুবিল্লাহ
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজিম
শয়তান সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয় যখন মানুষ নামাজে দাঁড়ায়। এটা শুধু কথার কথা না। কারণ সে ভালো করেই জানে, মানুষ যখন আল্লাহর কাছাকাছি যায়, সেটা তার জন্য ক্ষতিকর।
তাই সে মাথায় ঢুকিয়ে দেয় অন্য কথা। হিসাবের কথা, পরিকল্পনার কথা, কাউকে ফোন করার কথা, রান্নার ভাবনা। আউজুবিল্লাহ বলে আপনি আল্লাহকে বলছেন: "তোমার কাছে এসেছি, তোমার কাছেই সুরক্ষা চাইছি। শয়তান যেন এই কথোপকথনে মাঝখানে না আসতে পারে।"
বিসমিল্লাহ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
না। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা গুণ। অনেকেই এটা জানেন না।
বিসমিল্লাহ বলে আপনি বলছেন: "তোমার এই দুই ধরনের দয়াকে সামনে রেখে তোমার কিতাব পড়া শুরু করছি।" এটা শুধু শুরু করার আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা আল্লাহর দুটো সবচেয়ে সুন্দর গুণের স্মরণ।
সূরা আল-ফাতিহা: নামাজের হৃদয়
এই সূরা নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবী (সা.) বলেছেন: "যে সূরা ফাতিহা পড়ে না, তার নামাজ হয় না।"
এবং আল্লাহ নিজে বলেছেন: এই সূরা আমার আর আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করা। বান্দা যখন একটা আয়াত বলে, আমি সাথে সাথে জবাব দিই।
মানে হলো, আপনি যখন সূরা ফাতিহা পড়ছেন, সেটা একমুখী পড়া না। এটা একটা কথোপকথন। আপনি একটা লাইন বলছেন, আল্লাহ জবাব দিচ্ছেন। এটা জানলে পুরো সূরার অনুভূতিটাই বদলে যায়।
এই মুহূর্তে একটু থামুন। আপনি এখন শ্বাস নিচ্ছেন। হার্ট বিট করছে। চোখে আলো আসছে। মাথায় চিন্তা করার ক্ষমতা আছে। কেউ এটা দিচ্ছে, প্রতিটা মুহূর্তে। আপনি সেই সত্যটা স্বীকার করছেন।
নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন. আল্লাহ কঠোর শাসক নন। তিনি দয়ার প্রভু। তাঁর দরবারে যাওয়া যায়, কারণ তিনি শুনবেন।
এখানে একটু মাথা নত হয়ে যায়। একদিন হিসাব দিতে হবে। সেই দিনের সব কিছুর মালিক তিনি। না বস, না সমাজ, না অন্য কোনো শক্তি।
"শুধু তোমার", এই দুটো শব্দের ভার কতটুকু, একবার ভাবুন। না মানুষের, না পরিস্থিতির, না ভাগ্যের।
জীবনে কতবার মানুষের কাছে সাহায্য চাই, মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করি, মানুষের ভয়ে সিদ্ধান্ত নিই। এই আয়াতে আপনি নিজের কাছেই ঘোষণা দিচ্ছেন: "না। শুধু তোমার কাছেই।" এটা দিনে ১৭ বার নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার সুযোগ।
এটা সবচেয়ে বড় চাওয়া। টাকা না, সুস্বাস্থ্য না, সরল পথ চাইছেন। কারণ সরল পথ পেলে বাকি সব ঠিক হয়ে যায়। আর এই দোয়া আপনি দিনে পাঁচ ওয়াক্তে কমপক্ষে ১৭ বার করছেন, অথচ কতবার মনে করি এই চাওয়াটার কথা?
শেষে বলছেন: "হে আল্লাহ, নবী-রাসুল, সৎ মানুষ, তোমার প্রিয়জনরা যে পথে ছিলেন, আমাকে সেই পথে চলার তৌফিক দাও।"
ছোট সূরাগুলো
কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
মানুষ সবসময় জিজ্ঞেস করে, আল্লাহ কেমন? তিনি কোথা থেকে এলেন? তাঁর কি সন্তান আছে? এই চারটা লাইনে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। "সামাদ" মানে: সবাই যাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেছেন এই একটি শব্দেই আল্লাহর স্বয়ংসম্পূর্ণতার পুরো অর্থ ধরা আছে।
ইন্না আতাইনাকাল কাউসার। ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার। ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার।
এই সূরার পটভূমি জানলে আরো মর্মস্পর্শী লাগবে।
নবী (সা.) এর দুই পুত্র শিশু অবস্থায় মারা যান। সেই সময় মক্কার শত্রুরা তাঁকে "আবতার" বলে ব্যঙ্গ করতো, মানে পুরুষ উত্তরাধিকারহীন, যার বংশ টিকবে না। আল্লাহ এই সূরায় নবীকে সরাসরি সান্ত্বনা দিলেন: "না। তোমাকে আমি কাউসার দিয়েছি।" কাউসার মানে অফুরান কল্যাণ এবং জান্নাতের একটি বিশেষ নহর। আর তোমার শত্রুই আসলে নিঃস্ব। লক্ষ্য করুন: তিনি বললেন না "শত্রুকে শাস্তি দেব।" বললেন, "তোমার শত্রু নিজেই নিঃস্ব।" এটা আল্লাহর কথা বলার ধরন।
আল্লাহ সময়ের কসম দিয়ে শুরু করেছেন। কারণ সময় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। একবার চলে গেলে ফেরে না। তিনি বলছেন: মানুষ ক্ষতিতে আছে, জীবন চলে যাচ্ছে। কিন্তু চারটা গুণের মানুষ বাদ। মাত্র চারটা।
এই দুটো সূরা একসাথে "মুআওয়িযাতাইন" নামে পরিচিত। ফালাকে প্রকৃতির সব ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়। আন-নাসে মানুষ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে।
প্রতিদিন নানা ধরনের বিপদ আসে, কিছু বাইরে থেকে, কিছু মানুষের ঈর্ষা থেকে, কিছু ভেতরের দুর্বলতা থেকে। এই দুটো সূরা যেন সেই সব বিপদ থেকে আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আশ্রয় নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ দোয়া। নবী (সা.) নিজে অসুস্থ হলে এই দুটো সূরা এবং সূরা ইখলাস তিনবার করে পড়ে শরীরে বুলাতেন।
রুকুর তাসবিহ
সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম
রুকুতে মাথা নত করা একটা গভীর অর্থবহ কাজ। শরীরকে ভাঁজ করে বলছেন: "তুমি এত মহান, আমি মাথা নত করে সেটা স্বীকার করছি।" এটা শুধু শারীরিক নমনীয়তা নয়, মনের আত্মসমর্পণও।
"আজিম" মানে সর্বমহান। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাহাড়, সমুদ্র, মহাকাশ, যা কিছু বিশাল মনে হয়, আল্লাহ তার চেয়েও বড়। রুকুতে দাঁড়িয়ে এই সত্যটা মনে করাচ্ছেন নিজেকে।
রুকু থেকে ওঠার পর
সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ
রাব্বানা লাকাল হামদ
এখানে একটা সুন্দর আদান-প্রদান আছে। ইমাম বলছেন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ". আল্লাহ তার কথা শোনেন যে প্রশংসা করে। আর মুক্তাদি জবাব দেন "রাব্বানা লাকাল হামদ।" কখনো মনে হয় কেউ শুনছে না? এখানে আল্লাহ নিজে জানাচ্ছেন, যে তাঁর প্রশংসা করে, তার কথা তিনি শোনেন।
সিজদার তাসবিহ: সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত
সুবহানা রাব্বিয়াল আলা
এটা নামাজের সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত। মাথা সবচেয়ে নিচে। শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ, মাথাটা মাটিতে।
আর ঠিক এই অবস্থায় বলছেন: "পবিত্র আমার প্রভু, যিনি সর্বোচ্চ।" আপনি সবচেয়ে নিচে, আর আল্লাহ সবচেয়ে উপরে। এই বৈপরীত্যই সিজদার গভীরতা। উল্টো মনে হলেও এটাই সত্য, যখন আপনি সবচেয়ে নিচে, তখনই আল্লাহর সবচেয়ে কাছে।
দুই সিজদার মাঝের দোয়া
রাব্বিগফিরলি
এই ছোট দোয়াটার গভীরতা অনেক বেশি। দুটো সিজদার মাঝে, আল্লাহর সবচেয়ে কাছে থেকে, একটাই চাওয়া: "ক্ষমা করো।"
জীবনে কত ভুল হয়েছে, কত গুনাহ হয়েছে, অনেক সময় নিজেও জানি না কতটুকু হয়েছে। কিন্তু দিনে পাঁচ ওয়াক্তে, প্রতিটা রাকাতে সেই ক্ষমার দরজায় যাওয়া হচ্ছে। আল্লাহ কখনো না বলেন না, এটা জেনেই যাওয়া।
তাশাহহুদ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) তাঁর হাত নিজের দুই হাতের মধ্যে নিয়ে তাশাহহুদ শেখালেন। ঠিক যেভাবে কোরআনের সূরা শেখাতেন, ততটাই যত্নে, ততটাই গুরুত্ব দিয়ে।
"আশহাদু" মানে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি। আপনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছেন: আমি বিশ্বাস করি তুমিই একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ (সা.) তোমারই রাসুল। এটা নামাজে প্রতিদিনের নবায়নযোগ্য ঘোষণা। প্রতি রাকাতে এই সাক্ষ্য নতুন করে দেওয়া হচ্ছে।
তাশাহহুদের গভীরে: আঙুল ও বসার পদ্ধতি
তাশাহহুদে বসে ডান হাতের শাহাদত আঙুল তোলেন। এটা শুধু একটা অভ্যাস নয়, একাধিক সহিহ হাদিসে এর কারণ বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "এই আঙুল তোলা মানে ইখলাস, একনিষ্ঠতার প্রতীক।" মক্কার মুশরিকরা যখন নবী (সা.) কে আঙুল তুলতে দেখতো, বলতো তিনি যাদু করছেন। ইমাম বায়হাকি (রহ.) বর্ণনা করেছেন: এক সাহাবি বললেন: "তারা মিথ্যা বলেছে। নবী (সা.) এটা করতেন আল্লাহর তাওহিদের সাক্ষ্য দিতে।"
একবার নবী (সা.) সাদ (রা.) এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সাদ (রা.) দুটো আঙুল তুলে দোয়া করছিলেন। নবী (সা.) বললেন: "এক। এক।" কারণটা গভীর. আপনি এক আল্লাহর সাক্ষ্য দিচ্ছেন। এক উপাস্যের জন্য এক আঙুল।
চার মাযহাবের ইমামরা এই বিষয়ে সামান্য ভিন্নমত রেখেছেন, কারণ হাদিসে একাধিক বর্ণনা আছে। তবে মূল বিষয়ে সবাই একমত: আঙুল তোলা সুন্নত।
• অনামিকা + কনিষ্ঠ = ভাঁজ করা
• শাহাদত আঙুল = তোলা
• চোখ আঙুলের দিকে রাখুন
• সমতলভাবে বিছানো
• আঙুলগুলো স্বাভাবিক অবস্থায়
ডান হাতের এই অবস্থান নিজেই একটা বার্তা বহন করে। বৃত্তাকার হাত মানে "কোনো শরিক নেই", তোলা আঙুল মানে "একমাত্র আল্লাহ।" পুরো হাতটাই যেন তাওহিদের একটা চিহ্ন।
তাশাহহুদে দুটো বসার পদ্ধতি আছে এবং প্রতিটির পেছনে একটা কারণ আছে।
দুরুদ ইব্রাহিম
কা'ব ইবনে উজরা (রা.) বর্ণনা করেছেন: সাহাবিরা একবার নবী (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জানি কীভাবে সালাম দিতে হয়। কিন্তু আপনার উপর দুরুদ কীভাবে পড়বো?" তখন নবী (সা.) এই দোয়া শেখালেন।
কেন ইব্রাহিম (আ.) এর সাথে তুলনা? কারণ ইব্রাহিম (আ.) কে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, প্রায় সব ধর্মের মানুষ সম্মান করে। তাঁকে "খলিলুল্লাহ" অর্থাৎ আল্লাহর বন্ধু বলা হয়। আপনি দোয়া করছেন যে নবী মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিবারকেও সেই মর্যাদা ও রহমত দেওয়া হোক।
দোয়া মাসুরা
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সরাসরি নবী (সা.) এর কাছে একটা দোয়া চাইলেন নামাজে পড়ার জন্য। নবী (সা.) তাঁকে ঠিক এই দোয়াটা শেখালেন।
এই দোয়াটা সবচেয়ে সৎ স্বীকারোক্তি। বলছেন: "হ্যাঁ, আমি ভুল করেছি। অনেক করেছি। লুকাচ্ছি না। কিন্তু তোমার কাছেই ফিরছি, কারণ তুমি ছাড়া আর কে মাফ করবে?" বাস্তব জীবনে আমরা ভুল করি, নিজের উপর নিজে জুলুম করি, সময় নষ্ট করি, মানুষকে কষ্ট দিই। এই দোয়ায় সব স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফেরা হয়।
সালাম, সমাপ্তি
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
নামাজ শেষ হচ্ছে। ডান দিকে ও বাম দিকে মুখ ঘুরিয়ে সালাম দিচ্ছেন। কাকে সালাম? ডানে ও বামে কিরামান কাতিবিন, সেই ফেরেশতারা যারা আপনার আমল লিখে রাখছেন। এবং পাশে যারা নামাজ পড়ছেন।
লক্ষ্য করুন, নামাজ শেষ হচ্ছে একটা দোয়া দিয়ে। আল্লাহর সাথে কথা শেষ করতে করতে পাশের মানুষগুলোর জন্য বলছেন: "তোমার উপর শান্তি আসুক।" নামাজ শুধু নিজের জন্য না, শেষটা অন্যদের জন্যও।
শেষ কথা
এখন আপনি জানেন, নামাজ শুধু নড়াচড়া না। এটা একটা সম্পূর্ণ কথোপকথন। প্রতিটা তাকবির, প্রতিটা তাসবিহ, প্রতিটা সূরা একটা নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে।
শুরু হয় "আল্লাহু আকবার" দিয়ে, দুনিয়াকে পেছনে রেখে। শেষ হয় সালাম দিয়ে, শান্তি নিয়ে ফেরার সাথে। মাঝখানে যা আছে সেটা আপনার আর আল্লাহর একান্ত কথোপকথন।
সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫
জুলকার নাইন